ভাল লাগা
ভাল লাগা শুরু হল। মনে হচ্ছে আমি ঠিক জায়গায় এসে পড়লাম। ক্লাস করে অন্যরকম আনন্দ পাচ্ছি। আসলে আমি যা কিছু এতদিন জানতে চেয়েছি, আজ থেকে সেগুলোর উত্তর পেতে শুরু করলাম। মনে হচ্ছে এগুলো আমার জন্য আনন্দের বিষয়, লেখাপড়া নয়। ক্লাসে স্যারে পড়া, লাইব্রেরীর বই, ক্যান্টিন, বন্ধু সব, সব কিছুতেই আমার ভাল
লাগা ধরেছে। বাঙ্গালীরা অল্পতেই তুস্ট, হয়ত আমার ক্ষেত্রেও এটা প্রযোজ্য। অল্পতে তুস্ট হই আর নাই হই, আমি কিন্তু ভার্সিটি জীবনকে উপভোগ করা শুরু করেছি। নতুন নতুন বিষয় জানা ছিল আমার নেশা, আজ থেকে তা
লেখা-পড়ায় সংযুক্ত হয়েছে।
আজ নতুন একজন রুমমেট ঠিক হল, নাম সুব্রত। দেখতে বেশ স্মার্ট। ভালই এবং এটাও একটা ভললাগা। মনে হয় আগামীকাল আরো দু'জন পেয়ে যাব। যদি পেয়ে যাই, তাহলে এটা হবে আরো ভাল লাগা। যদি নতুন কেউ আগামিকাল আসে, তবে তাদের কথা লিখব। আমি ঠিক করেছি আমরা মোট চারজন আমদের মেসে থাকব। একটা রুম, চারটা মানুষ।
আজ পাচঁটা ক্লাস হয়েছে। আগামীকাল ল্যাব আছে।ভার্সিটি জীবনের প্রথম ল্যাব। আমার তো আবার এগুলোতে আগ্রহ একটু বেশি, তাই রাতটা পার হতে বেশি সময় লাগতেই পারে।
মারুফ(২২-০৫-০৬)
বুধবার, ৩১ মার্চ, ২০১০
মঙ্গলবার, ৩০ মার্চ, ২০১০
Dairy-3
প্রথম ক্লাস
কাল রাতটা ভাল যায়নি। সারা রাত আধা ঘুম আধা সজাগ অবস্থা। একেতো গরম, অন্যদিকে নতুন জায়গা। যাই হোক অনেক কস্টে সকাল হল। তারপর গোসল করলাম এবং হোটেল থেকে নাস্তা খেয়ে আটটা সময় বাসের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। অনেক স্টুডেন্ট। মনে হচ্ছিল বাসে উঠতেই পারবনা। আল্লাহর রহমতে অনেকের মধ্যে আমি একটা সিটও পেয়ে গেলাম বসার জন্য।
ন'টায় ক্লাস শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শুরু হল প্রায় সারে ন'টায়। মাঝের এই সময়টাতে আশেপাশের ক্লাসমেটদের সাথে পরিচিত হলাম। প্রথম ক্লাস নিতে আসা শিক্ষকের নাম শাহীন স্যার, তিনি ক্লসে এসে বিভিন্ন নিয়ম কানুন, রুটিন, গ্রেডিং সিস্টেম ও আনুসাঙ্গিক অনেক বিষয়ে সুন্দর লেকচার দিলেন।পরিশেষে নাম ডেকে স্যার আজকের জন্য ক্লাস সমাপ্ত ঘোষনা দিলেন।
আমি মেসের একজন নতুন সদস্য পেলাম, নাম মাহমুদ। তার সাথে লাইব্রেরিতে গেলাম এবং পেপার পড়লাম। সব কিছুই আমার জন্য এটা ভাবতেই ভাল লাগছিল। বাসে করে মেসে ফেরা হলনা, ফিরলাম রিক্সায়। মেসের জন্য কিছু জিনিষ কিনলাম, বিকেলে বাজার করে আনলাম আমি আর মাহমুদ। সন্ধায় ভাত এবং ডিম ভাজা করে খেলাম। সাধারন
একটি দিনের ইতি টানলাম।
মারুফ(২১-০৫-০৬)
কাল রাতটা ভাল যায়নি। সারা রাত আধা ঘুম আধা সজাগ অবস্থা। একেতো গরম, অন্যদিকে নতুন জায়গা। যাই হোক অনেক কস্টে সকাল হল। তারপর গোসল করলাম এবং হোটেল থেকে নাস্তা খেয়ে আটটা সময় বাসের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। অনেক স্টুডেন্ট। মনে হচ্ছিল বাসে উঠতেই পারবনা। আল্লাহর রহমতে অনেকের মধ্যে আমি একটা সিটও পেয়ে গেলাম বসার জন্য।
ন'টায় ক্লাস শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শুরু হল প্রায় সারে ন'টায়। মাঝের এই সময়টাতে আশেপাশের ক্লাসমেটদের সাথে পরিচিত হলাম। প্রথম ক্লাস নিতে আসা শিক্ষকের নাম শাহীন স্যার, তিনি ক্লসে এসে বিভিন্ন নিয়ম কানুন, রুটিন, গ্রেডিং সিস্টেম ও আনুসাঙ্গিক অনেক বিষয়ে সুন্দর লেকচার দিলেন।পরিশেষে নাম ডেকে স্যার আজকের জন্য ক্লাস সমাপ্ত ঘোষনা দিলেন।
আমি মেসের একজন নতুন সদস্য পেলাম, নাম মাহমুদ। তার সাথে লাইব্রেরিতে গেলাম এবং পেপার পড়লাম। সব কিছুই আমার জন্য এটা ভাবতেই ভাল লাগছিল। বাসে করে মেসে ফেরা হলনা, ফিরলাম রিক্সায়। মেসের জন্য কিছু জিনিষ কিনলাম, বিকেলে বাজার করে আনলাম আমি আর মাহমুদ। সন্ধায় ভাত এবং ডিম ভাজা করে খেলাম। সাধারন
একটি দিনের ইতি টানলাম।
মারুফ(২১-০৫-০৬)
শুক্রবার, ২৬ মার্চ, ২০১০
Dairy2
বাসা হতে মেস
শুক্রবারের কথা বাদ দিলাম। আজ শনিবার। সকাল হতে আমার একেবারে কেমন যেন মৃধু টেনশন হতে থাকল। সত্যি বলতে কি বাসার প্রতি এক রকম টান অনুভব করতে লাগলাম সাথে সামান্য ভয় যদি বাড়িওয়ালা অন্য কাউকে বাসাটা ভাড়া দিয়ে দেয়। ঠিক তিনটার দিকে মাছের কথা মনে পড়ল, কিন্তু সময় নেই যে মাছের জন্য পুকুর থেকে ফেনা এনে দেই। বলে রাখা ভাল আমি বাসায় একটা মাছ পালতাম। দেশি মাছ, সোয়াবিন তেলের জার কেটে তার ভিতর পানি দিয়ে একুরিয়াম বানিয়ে দিয়েছিলাম।
সাড়ে তিনটায় আমি আর বড় আপা বাসা থেকে বের হয়ে আসলাম সাথে আর্মির কাপড়ে মোরানো তোষক আর কাপড়ের ব্যাগ। আপা রেল স্টেশন পর্যন্ত আসল। টাঙ্গাইল আসতে প্রায় পাঁচটা বেজে গেল। নামার সময় একজনের সাক্ষাত পেলাম, CSE প্রথম বর্ষের, বাড়ি গাজীপুরে। তাকে সাহায্য করতে বললাম এবং সে সাহায্য করল।
টাঙ্গাইল পৌছে চাচার কাছ থেকে মেসের চাবি নিয়ে মেসটা যে আমার সেটা নিশ্চিত করলাম। একটু পর তানভির সহ পাচঁজন এলো আমার রুমে। আমরা চাইনিজে গিয়ে স্যুপ খেলাম। বিলের কথাটা বলি, জন প্রতি ২২টাকা। হাটা-হাটি করে গল্প করতে করতে রাত ন’টা বেজে গেল। পাশের বাসার ভাইয়াদের সংগে পরিচিত হলাম। আব্বা ও আম্মাকে ফোন করলাম। মিনিট দু’ইয়েক আগে বাড়িওয়ালা চাচা এসেছিল আমি তাকে এডভান্স তিন হাজার টাকা দিয়ে দিলাম। রুমে পূর্বে থেকেই লাইট ও ফ্যান লাগানো থাকায় আজ রাতটা অন্তত আরামে থাকা যাবে।এখন রাত দশটা বাজে, একবারও কারেন্ট যায়নি। বাকি রাত যেন এভাবেই যায়। কাল ভার্সিটি জীবনের প্রথম ক্লাস শুরু হবে। আমি রুমে একা কিন্তু কোন ভায় লাগছেনা বরং সুখ সুখ ভাব হচ্ছে।
মারুফ(২১-০৫-০৬)
শুক্রবারের কথা বাদ দিলাম। আজ শনিবার। সকাল হতে আমার একেবারে কেমন যেন মৃধু টেনশন হতে থাকল। সত্যি বলতে কি বাসার প্রতি এক রকম টান অনুভব করতে লাগলাম সাথে সামান্য ভয় যদি বাড়িওয়ালা অন্য কাউকে বাসাটা ভাড়া দিয়ে দেয়। ঠিক তিনটার দিকে মাছের কথা মনে পড়ল, কিন্তু সময় নেই যে মাছের জন্য পুকুর থেকে ফেনা এনে দেই। বলে রাখা ভাল আমি বাসায় একটা মাছ পালতাম। দেশি মাছ, সোয়াবিন তেলের জার কেটে তার ভিতর পানি দিয়ে একুরিয়াম বানিয়ে দিয়েছিলাম।
সাড়ে তিনটায় আমি আর বড় আপা বাসা থেকে বের হয়ে আসলাম সাথে আর্মির কাপড়ে মোরানো তোষক আর কাপড়ের ব্যাগ। আপা রেল স্টেশন পর্যন্ত আসল। টাঙ্গাইল আসতে প্রায় পাঁচটা বেজে গেল। নামার সময় একজনের সাক্ষাত পেলাম, CSE প্রথম বর্ষের, বাড়ি গাজীপুরে। তাকে সাহায্য করতে বললাম এবং সে সাহায্য করল।
টাঙ্গাইল পৌছে চাচার কাছ থেকে মেসের চাবি নিয়ে মেসটা যে আমার সেটা নিশ্চিত করলাম। একটু পর তানভির সহ পাচঁজন এলো আমার রুমে। আমরা চাইনিজে গিয়ে স্যুপ খেলাম। বিলের কথাটা বলি, জন প্রতি ২২টাকা। হাটা-হাটি করে গল্প করতে করতে রাত ন’টা বেজে গেল। পাশের বাসার ভাইয়াদের সংগে পরিচিত হলাম। আব্বা ও আম্মাকে ফোন করলাম। মিনিট দু’ইয়েক আগে বাড়িওয়ালা চাচা এসেছিল আমি তাকে এডভান্স তিন হাজার টাকা দিয়ে দিলাম। রুমে পূর্বে থেকেই লাইট ও ফ্যান লাগানো থাকায় আজ রাতটা অন্তত আরামে থাকা যাবে।এখন রাত দশটা বাজে, একবারও কারেন্ট যায়নি। বাকি রাত যেন এভাবেই যায়। কাল ভার্সিটি জীবনের প্রথম ক্লাস শুরু হবে। আমি রুমে একা কিন্তু কোন ভায় লাগছেনা বরং সুখ সুখ ভাব হচ্ছে।
মারুফ(২১-০৫-০৬)
বুধবার, ২৪ মার্চ, ২০১০
Dairy-1
আমার সোনালি ফ্রেমে বাধানো রুপালি অতিত
২১মে ২০১০ এ আমার বিশ্ববিদ্যাল জীবনের চার বছর পূর্ন হবে। আজ হঠাৎ পুরানো ডাইরি ঘাটতে গিয়ে দেখি প্রথম সেমিস্টারের কিছু লেখা। পড়ে ভালো লাগল। স্মৃতিতে ভেসে এলো আমার টাংগাইল জীবনের প্রথম দিককার সময়। অতিত! আমার সোনালি ফ্রেমে বাধানো রুপালি অতিত।
ওরিয়েন্টেশন
আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামটা আমার জন্য ‘ওরি’ এবং ‘টেনশন’ হয়ে গিয়েছিল। গাজীপুর থেকে সকাল সাড়ে আটটায় মোবাইল করে জানতে পারলাম প্রোগ্রাম শুরু দশটায়। তখন আমার অবস্থা “গোড়ায় গলদ”। কারন গাজীপুর হতে টাংগাইল আসতে কমপক্ষে আড়াই ঘন্টা লাগার কথা। যাই হোক, কোন রকম সাজগোজ ছাড়াই দশ মিনিটে রেডি হয়ে টাংগাইলের পথে বাস ধরলাম। আমি নিশ্চিত ছিলাম যে, ঠিক এগারোটায় পৌছে দেখব প্রোগ্রাম অর্ধেক শেষ, কেউ কেউ আমার দেরিতে আসতে দেখে হাসবে। কিন্তু বাংলাদেশ বলে কথা, ন’টার ট্রেন ক’টায় ছাড়ে অবস্থা। পৌনে আগারোটায় এসে দেখি কিছুই শুরু হইনি।
আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে বাচাঁলেন। কোন কিছু মিস হলনা। আমার আবার একটা সমস্যা যে কোথাও দেরিতে গেলে মনে হয় যেন কত কিছু মিছ করে ফেলেছি। যা হোক প্রগ্রাম শুরু হল ঠিক বারোটায়। গরমে তখন আমার বারোটা বাজে অবস্থা। প্রধান, বিশেষ সহ অনেক অতিথি ভাষন দিয়ে সবাইকে অভয় দিলেন এবং বললেন যে আমরা এখানে ভর্তি হতে পেরে ভাগ্যবান। আমিও তাই মেনে নিলাম। অনুষ্ঠানের শেষ প্রান্তে খাবারের পেকেট এলো। পেকেটে ভদ্রতার ছাপ পেলাম, কি ভেতরে কি বাহিরে। বিকেলে মেছের সন্ধানে বের হলাম। প্রথমে এক বৃদ্ব চাচার বাসা দেখে পছন্দ হল কিন্তু ভাড়া তিন হাজার টাকা গ্যাস-কারেট ছাড়া। তাই রাজি হলাম না। কিন্তু সন্ধ্যার পর এসে পাকা কথা দিয়ে গেলাম। বাসায় ফিরতে ফিরতে তখন রাত এগারটা। ভাত খেয়ে খানিক পরে নিদ্রা সাগরে ডুব মারলাম।]
মারুফ(২০-০৫-২০০৬
২১মে ২০১০ এ আমার বিশ্ববিদ্যাল জীবনের চার বছর পূর্ন হবে। আজ হঠাৎ পুরানো ডাইরি ঘাটতে গিয়ে দেখি প্রথম সেমিস্টারের কিছু লেখা। পড়ে ভালো লাগল। স্মৃতিতে ভেসে এলো আমার টাংগাইল জীবনের প্রথম দিককার সময়। অতিত! আমার সোনালি ফ্রেমে বাধানো রুপালি অতিত।
ওরিয়েন্টেশন
আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামটা আমার জন্য ‘ওরি’ এবং ‘টেনশন’ হয়ে গিয়েছিল। গাজীপুর থেকে সকাল সাড়ে আটটায় মোবাইল করে জানতে পারলাম প্রোগ্রাম শুরু দশটায়। তখন আমার অবস্থা “গোড়ায় গলদ”। কারন গাজীপুর হতে টাংগাইল আসতে কমপক্ষে আড়াই ঘন্টা লাগার কথা। যাই হোক, কোন রকম সাজগোজ ছাড়াই দশ মিনিটে রেডি হয়ে টাংগাইলের পথে বাস ধরলাম। আমি নিশ্চিত ছিলাম যে, ঠিক এগারোটায় পৌছে দেখব প্রোগ্রাম অর্ধেক শেষ, কেউ কেউ আমার দেরিতে আসতে দেখে হাসবে। কিন্তু বাংলাদেশ বলে কথা, ন’টার ট্রেন ক’টায় ছাড়ে অবস্থা। পৌনে আগারোটায় এসে দেখি কিছুই শুরু হইনি।
আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে বাচাঁলেন। কোন কিছু মিস হলনা। আমার আবার একটা সমস্যা যে কোথাও দেরিতে গেলে মনে হয় যেন কত কিছু মিছ করে ফেলেছি। যা হোক প্রগ্রাম শুরু হল ঠিক বারোটায়। গরমে তখন আমার বারোটা বাজে অবস্থা। প্রধান, বিশেষ সহ অনেক অতিথি ভাষন দিয়ে সবাইকে অভয় দিলেন এবং বললেন যে আমরা এখানে ভর্তি হতে পেরে ভাগ্যবান। আমিও তাই মেনে নিলাম। অনুষ্ঠানের শেষ প্রান্তে খাবারের পেকেট এলো। পেকেটে ভদ্রতার ছাপ পেলাম, কি ভেতরে কি বাহিরে। বিকেলে মেছের সন্ধানে বের হলাম। প্রথমে এক বৃদ্ব চাচার বাসা দেখে পছন্দ হল কিন্তু ভাড়া তিন হাজার টাকা গ্যাস-কারেট ছাড়া। তাই রাজি হলাম না। কিন্তু সন্ধ্যার পর এসে পাকা কথা দিয়ে গেলাম। বাসায় ফিরতে ফিরতে তখন রাত এগারটা। ভাত খেয়ে খানিক পরে নিদ্রা সাগরে ডুব মারলাম।]
মারুফ(২০-০৫-২০০৬
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যসমূহ (Atom)